জ্বালানি পণ্যটির সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় ইউরোপ ও উত্তর-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো এখন বিকল্প হিসেবে কয়লার ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে। চাহিদার এ আকস্মিক চাপে বিশ্ববাজারে কয়লার দাম গত দুই বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। খবর এফটি।
জ্বালানি পণ্যের বাজারদর বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান আর্গাসের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় ইউরোপে বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ব্যবহৃত তাপীয় কয়লার দাম ২৬ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে সেখানে প্রতি টন কয়লার দাম দাঁড়িয়েছে ১৩৩ ডলারে। ইউরোপের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া ও এশিয়ার বাজারগুলোয় কয়লার দাম একইভাবে বাড়ছে।
বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান পানমুরে লিবারামের বিশ্লেষক টম প্রাইস বলেন, ‘২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর কয়লার বাজারে এমন অস্থিরতা আর দেখা যায়নি। এটি গত কয়েক বছরের মধ্যে কয়লার বাজারে সবচেয়ে বড় ধাক্কা।’
২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের সময় ইউরোপীয় দেশগুলো রাশিয়ার গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমাতে কয়লার ব্যবহার বাড়িয়েছিল। তখন প্রতি টন কয়লার দাম রেকর্ড ৪০০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটে হরমুজ প্রণালি দিয়ে কয়লা পরিবহনে সরাসরি কোনো বাধা না থাকলেও এলএনজি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত শনিবার যুদ্ধ শুরুর পর ইউরোপে গ্যাসের দাম বেড়েছে প্রায় ৫৩ শতাংশ।
গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো এখন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে। ইতালির পরিবেশ ও জ্বালানি নিরাপত্তামন্ত্রী জিলবার্তো পিকেত্তো ফ্রাতিন এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, জ্বালানি সংকট আরো ঘনীভূত হলে তার দেশ বন্ধ হয়ে যাওয়া কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো পুনরায় চালু করার কথা ভাবছে।
আর্গাসের কয়লাবিষয়ক ব্যবস্থাপক অ্যালেক্স থ্যাকরা জানান, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত চললে কয়লার দাম বর্তমানের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রতি টন কয়লার দাম ২৫০ ডলারে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে এলএনজি সরবরাহ দীর্ঘ সময় বাধাগ্রস্ত হলে কয়লার বাজারে এর বড় প্রভাব পড়বে।
কয়লার বাজার অস্থিতিশীল হওয়ার পেছনে আরো কিছু কারণ রয়েছে। বিশ্বের শীর্ষ রফতানিকারক দেশ ইন্দোনেশিয়া কয়লা উত্তোলনে নতুন কোটা পদ্ধতি চালু করেছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে কয়লার সরবরাহ আগে থেকেই কমছিল। বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান নাইনটি ওয়ানের পোর্টফোলিও ম্যানেজার জর্জ শেভেলি বলেন, ‘জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি গত কয়েক বছর দাম কম থাকায় কয়লা উত্তোলনও কমে গিয়েছিল। এ কারণেই এখন কয়লার বাজার চাঙ্গা হয়ে উঠেছে।’